আলোচিত অ্যালবিনো মহিষ “ডোনাল্ড ট্রাম্প” শেষ পর্যন্ত কোরবানি হচ্ছে না। ব্যাপক আলোচনা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বিরল প্রজাতির এই মহিষটিকে কোরবানি না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলে কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকার ইসলামপুর থেকে মহিষটিকে পুলিশের তত্ত্বাবধানে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল চারটার দিকে জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা মহিষটির বর্তমান মালিক মনিরুজ্জামানের বাড়িতে যান। পরে তাকে জানানো হয়, “ওপর থেকে নির্দেশ এসেছে, মহিষটি কোরবানি করা যাবে না।” এরপর সন্ধ্যার দিকে ট্রাকে করে মহিষটিকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
মহিষটির মালিক মনিরুজ্জামান জানান, রোজার ঈদের প্রায় ১০ দিন পর তিনি মহিষটি কিনেছিলেন এবং তিন দিন আগে কোরবানির উদ্দেশ্যে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, “সরকার থেকে লোক এসে বলেছে, মহিষটি নিয়ে যেতে হবে। আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, তাই দিয়ে দিয়েছি।” তিনি আরও জানান, সরকার তাদের মহিষটির মূল্য পরিশোধ করবে অথবা বিকল্প হিসেবে কোরবানির জন্য অন্য গরু দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস বলেন, বিরল প্রজাতির হওয়ায় মহিষটিকে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে “ডোনাল্ড ট্রাম্প” নামের এই মহিষটি দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। মহিষটির মাথার সোনালি ঢেউখেলানো লোম ও মুখের গড়নের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছুটা মিল থাকায় এমন নামকরণ করা হয়েছিল। নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে বেড়ে ওঠা এই মহিষটিকে দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় করছিলেন।
প্রথমে স্থানীয়ভাবে আলোচিত হলেও পরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স, এএফপি ও টেলিগ্রাফের খবর প্রকাশের পর মহিষটি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
মহিষটিকে থানায় নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরও অনেক দর্শনার্থী সেটি দেখতে এসে ফিরে যান। স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন, কোরবানির পশু থেকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসা এই মহিষ এখন বাংলাদেশের এক ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক ঘটনাতেই পরিণত হয়েছে।

