ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা উল্টো ফল বয়ে আনছে বলে মন্তব্য করেছে আল জাজিরা। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানকে “একঘরে” করার চেষ্টা করতে গিয়ে বরং ভারত নিজেই কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়ছে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহে পাকিস্তানের অবস্থান আগের তুলনায় আরও সক্রিয় ও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো এখন পাকিস্তানকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, চীন ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ইসলামাবাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভারতের জন্য কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক মহলের একটি অংশ সেই অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছে। বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, আফগানিস্তান পরিস্থিতি এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভূমিকা নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের সক্রিয় উপস্থিতি এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিয়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতির কিছু পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্নও উঠছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতিতে শুধু আদর্শিক অবস্থান নয়, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বাস্তবতাকেও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সে কারণে বহু দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। বিশেষ করে জ্বালানি, বাণিজ্য এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা বাস্তবসম্মত নয় বলেও মন্তব্য করা হয়।
তবে ভারতীয় বিশ্লেষকদের একটি অংশ এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয়। তাদের মতে, পাকিস্তান এখনো নানা অভ্যন্তরীণ সংকট ও নিরাপত্তা সমস্যার মুখোমুখি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাবও অনেক বেশি শক্তিশালী।
সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যকার কূটনৈতিক প্রতিযোগিতা নতুন মাত্রা পাচ্ছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের এই বিশ্লেষণ সেই চলমান প্রতিদ্বন্দ্বিতারই আরেকটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

