হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসান আবারও আলোচনায় এসেছেন। চলতি বছরের শুরুতে থানায় বসে বানিয়াচং থানা পোড়ানো এবং পুলিশ কর্মকর্তা এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার দাবি করে সমালোচনার জন্ম দেওয়া এই ছাত্রনেতা এবার নিরাপত্তার আশঙ্কায় পুলিশের কাছেই আশ্রয় নিয়েছেন।
বুধবার (১০ জুন) মাহদী হাসান নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের কিছু কর্মী তাকে ধাওয়া করছে এবং হামলার চেষ্টা করছে। লাইভে তাকে উদ্বিগ্ন অবস্থায় দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি রিকশাযোগে হবিগঞ্জ সদর থানার দিকে ছুটে যান এবং থানায় পৌঁছে পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চান।
লাইভে মাহদী দাবি করেন, ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার পিছু নিয়েছে এবং হামলার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করছে। পরে তিনি জানান, একটি ড্রাইভিং পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।
মাহদীর এই পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, গত ২ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এক যুবককে ছাড়াতে গিয়ে তিনি ওসির কক্ষে ঢুকে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বানিয়াচং থানায় হামলা ও এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার দাবি করেন। বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরে ৩ জানুয়ারি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করলেও পরদিন আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।
হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন জানান, মাহদী একটি মৌখিক অভিযোগ করেছেন। প্রাথমিকভাবে পাওয়া ভিডিওতে ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীকে শনাক্ত করা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে মাহদী থানাতেই অবস্থান করছেন বলে জানান তিনি।

