দুর্নীতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে। বিমানবন্দরে ব্যবহৃত আধুনিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) নির্ভর ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করার পর ইন্টারপোলের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তার গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি ইংরেজিতে লিখেছেন, “The Butcher of Shapla is done!! Next in line…!!” অর্থাৎ, ‘শাপলার কসাইয়ের অধ্যায় শেষ!! এবার পরবর্তী জনের পালা…!’।। তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিশ’ জারি করা হয়। পরবর্তীতে গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ বাংলাদেশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোকে (এনসিবি) ইমেইলের মাধ্যমে তার গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় বলে দাবি করা হয়েছে।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনা। সে সময় তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন সূত্রের দাবি, ওই সময় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে সংঘটিত একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় তার নাম অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছে।
এছাড়া সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির নানা অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত চলছিল। তার গ্রেপ্তারের খবরে ভুক্তভোগী পরিবার ও সংশ্লিষ্ট মহলে বিচার প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়েছে।

