বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়ের রাতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন লিওনেল মেসি। হ্যাটট্রিক করে দলকে দুর্দান্ত জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে ম্যাচ শেষে তার অসাধারণ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে এসেছে একটি বিতর্কিত ট্যাকলের ঘটনা।
আলজেরিয়ার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আইসা মান্দির অভিযোগ, ম্যাচের ৩১তম মিনিটে মেসির একটি বিপজ্জনক ট্যাকলের শিকার হলেও তিনি কোনো বিচার পাননি। তার দাবি, ঘটনাটি রেফারির নজরে এলেও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পরও মেসিকে কোনো কার্ড দেখানো হয়নি।
ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের হতাশা প্রকাশ করেন মান্দি। এক পোস্টে তিনি লেখেন, “গত রাতে যদি আমার গোড়ালি ভেঙেও যেত, তবুও যে খেলোয়াড় এটি করেছে সে কোনো কার্ড পেত না। রেফারিদের আরও ভালো হতে হবে। পুরো বিশ্ব তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।”
তার এই মন্তব্য দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। অনেকেই মনে করছেন, ঘটনাটি আরও গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা উচিত ছিল। অন্যদিকে মেসির সমর্থকদের একাংশের দাবি, এটি ছিল খেলার স্বাভাবিক অংশ এবং ইচ্ছাকৃত কোনো ফাউল নয়।
ম্যাচের দায়িত্বে ছিলেন পোল্যান্ডের অভিজ্ঞ রেফারি শিমন মারচিনিয়াক। তার সিদ্ধান্ত নিয়েও চলছে আলোচনা। ফুটবল বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, মেসির ট্যাকল অন্তত হলুদ কার্ড পাওয়ার মতো ছিল। আবার অনেকে রেফারির সিদ্ধান্তকেই সমর্থন করছেন।
এদিকে আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ ম্যাচ শেষে নিজের দলের ভুলের কথাই বেশি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মেসির মতো একজন খেলোয়াড়কে সুযোগ দিলে তার মূল্য দিতেই হয়। তবে বিতর্কিত ট্যাকল প্রসঙ্গে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে দেখা যায়নি তাকে।
ম্যাচে জয় ও হ্যাটট্রিকের আনন্দের মাঝেও তাই মেসিকে ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে বিশ্বকাপের মঞ্চে।

