সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে, সরকারি চাকরিজীবীদের কেউ কেউ নিজেদের চাকরি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তদবির করাতে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাচ্ছেন। এমন প্রবণতা ঠেকাতে বাইরের ব্যক্তি বা প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে তদবির করাকে অসদাচরণ আখ্যা দিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ শাখা থেকে সম্প্রতি জারি করা এই সংক্রান্ত পত্রে বলা হয়েছে, এ ধরনের তদবির সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর বিধি ২০-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ২(খ) ধারা অনুযায়ী এটি অসদাচরণের শামিল। সরকারি কর্মচারীদের আচরণ ও দায়িত্ব পালনের বিধিবিধান ইতিমধ্যে ১৯৭৯ সালের ওই বিধিমালায় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকার কথাও পত্রে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।
উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত এই পত্রে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী নিজের পক্ষে অন্য কারও মাধ্যমে চাকরি সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির করালে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে, আর তদবিরের পুরো বিবরণ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ডোসিয়ারে সংরক্ষণ করতে হবে।
তবে চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে আবেদন করার সুযোগ কর্মচারীদের জন্য খোলা থাকছে বলেও পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, কোনো কর্মচারী যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিজের নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা কর্তৃপক্ষের কাছে সরাসরি আবেদন করতে পারবেন, আর এমন আবেদন পাওয়ার পর নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়কে সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে যৌক্তিকভাবে তা নিষ্পত্তি করতে হবে।
নিজ নিজ নিয়ন্ত্রণাধীন দপ্তর ও সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই পত্র প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব সিনিয়র সচিব ও সচিব, সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

