পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির দুধ চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ছাত্রদলের এক নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতার নাম মো. নাদিম মাহমুদ। তিনি উপজেলার ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বৃহস্পতিবার রাতে পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে নাদিম মাহমুদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংগঠনের নেতাকর্মীদের তাঁর সঙ্গে সাংগঠনিক কোনো ধরনের সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নেছারাবাদ উপজেলার দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিশুদের দেওয়ার জন্য রাখা ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে নাদিম মাহমুদের বিরুদ্ধে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর এ ঘটনা ঘটে বলে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এরপর নাদিম মাহমুদ তাঁর দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে যান এবং নিয়ে যাওয়া ৩০ প্যাকেট দুধের মধ্যে ২৭ প্যাকেট ফেরত দেন। নাদিমের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁরা তিন প্যাকেট দুধ খেয়েছিলেন। দুধগুলো শিশুদের জন্য বরাদ্দ ছিল, এ বিষয়টি তারা জানতেন না বলেও তিনি দাবি করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে বাকি দুধ বিদ্যালয়ে ফেরত দেওয়া হয়।
ঘটনাটি সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের নেতাদের নজরে আসে। পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নাদিম মাহমুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার বলেন, স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতেই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদারের বক্তব্যে বলা হয়, স্কুল ফিডিংয়ের দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের পরই নাদিমের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, ঘটনাটি শিক্ষা অফিসকে জানাতে দেরি হওয়ার কারণেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষককে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
নাদিম মাহমুদ বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদকের পাশাপাশি সরকারি স্বরূপকাঠী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে। তবে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ দুধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা ছাত্রদলের সিদ্ধান্তের পর তার এসব সাংগঠনিক দায়িত্বও আর থাকছে না।

