অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে সড়কের ওপর নামাজ পড়ার সময় পাকিস্তানি শিক্ষার্থী সামিয়া মালিককে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় চালক অ্যাশটন জ্যাকব ফ্রেন্ডকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে সাজা স্থগিত করায় আপাতত তাঁকে কারাগারে যেতে হচ্ছে না। পাশাপাশি আগামী ১০ বছরের জন্য তাঁর গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আদালতের এ রায় নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ৬ মে রাত প্রায় ১১টার দিকে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডের হিলক্রেস্ট এলাকার নর্থ ইস্ট রোডে। নিহত সামিয়া মালিকের বয়স ছিল ২০ বছর। তিনি পাকিস্তানের শিয়ালকোটের বাসিন্দা এবং অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করছিলেন।
আদালতে উপস্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গাড়ির ধাক্কা লাগার আগে সামিয়া প্রায় চার মিনিট ধরে সড়কের ওপর হাঁটু গেড়ে ছিলেন। তাঁর হাতের অবস্থান দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি নামাজ পড়ছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে তিনি ওই সময় সড়কের মাঝখানে অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে আদালতে নিশ্চিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার সময় গাড়ি চালাচ্ছিলেন অ্যাশটন জ্যাকব ফ্রেন্ড। আদালতে জানানো হয়, তিনি নির্ধারিত গতিসীমার নিচে গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং মদ বা মাদক গ্রহণের প্রভাবে ছিলেন না। তবে সংঘর্ষের আগে তিনি গাড়ির পেছনের দৃশ্য দেখার আয়নায় তাকিয়েছিলেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সামিয়াকে দেখতে পেলে বা পরিস্থিতি বুঝতে পারলে দুর্ঘটনা এড়ানোর কিংবা এর ক্ষতি কমানোর সম্ভাবনা থাকতে পারত।
ফ্রেন্ডের বিরুদ্ধে অসতর্কভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানো এবং দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল ছেড়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তিনি উভয় অভিযোগেই দোষ স্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের পর প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, গাড়ির ধাক্কায় হয়তো একটি ক্যাঙ্গারু আঘাত পেয়েছে। তাই তিনি গাড়ি থামাননি। পরদিন সংবাদমাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর দেখার পর তিনি বুঝতে পারেন, সড়কে একজন মানুষকে ধাক্কা দিয়েছেন।
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার জেলা আদালতের বিচারক অ্যান বার্নেট ফ্রেন্ডকে এক বছর তিন মাস ২৯ দিনের কারাদণ্ড দেন। এর মধ্যে আট মাসের আগে প্যারোলের সুযোগ না রাখার বিধান ছিল। তবে তাঁর বয়স, অনুশোচনা, সংশোধনের সম্ভাবনা এবং ঘটনার পরিস্থিতি বিবেচনায় দুই বছরের জন্য ভালো আচরণের শর্তে সাজা স্থগিত করা হয়। এ জন্য তাঁকে ৫০০ অস্ট্রেলীয় ডলারের বন্ডে থাকতে হবে। একই সঙ্গে ১০ বছরের জন্য তাঁর ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
এর আগে আদালতে সামিয়ার পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন ফ্রেন্ড। দুর্ঘটনা এবং পরবর্তী সময়ে ঘটনাস্থলে না থামার দায়ও তিনি স্বীকার করেন।
অন্যদিকে, সামিয়ার মৃত্যুতে তাঁর পরিবার গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে। পাকিস্তানে থাকা স্বজনদের জন্য প্রিয়জনকে হারানোর মানসিক কষ্টের পাশাপাশি মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া ও শেষকৃত্যের ব্যয় সামলানোও কঠিন হয়ে পড়েছিল।
এ ঘটনায় আদালত চালককে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড দিলেও তা স্থগিত রেখেছেন। অর্থাৎ, তাঁকে খালাস দেওয়া হয়নি; বরং নির্দিষ্ট শর্তে কারাদণ্ড কার্যকর করা থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

