ভারতের উত্তর প্রদেশের বিজনর জেলায় লাউডস্পিকারে নির্ধারিত শব্দসীমার চেয়ে বেশি শব্দে আজান দেওয়ার অভিযোগে একটি মসজিদের মুয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় মসজিদের মাইক জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে এক পুলিশ কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার মুয়াজ্জিনের নাম মোহাম্মদ ফাইজান। গত শনিবার (১০ অক্টোবর) জেলার নাজিবাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উমেশ প্রতাপ সিং ও পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই একটি জনঅভিযোগ শুনানি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে মহল্লা মাকবারা এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি মসজিদ থেকে উচ্চ শব্দে আজানের আওয়াজ শুনতে পান।
এরপর পুলিশ সুপারের নির্দেশে কোতোয়ালি থানার পুলিশ সংশ্লিষ্ট মসজিদে গিয়ে মাইক জব্দ করে এবং মুয়াজ্জিন ফাইজানকে আটক করে। পরে পুলিশের উপপরিদর্শক সৌরভ কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে শব্দদূষণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঘটনার পর বিজনর জেলার ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে মাইকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। জেলার সব থানাকে ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে ব্যবহৃত লাউডস্পিকার নির্ধারিত শব্দসীমা মেনে চলছে কি না, সে বিষয়ে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে বিজনর জেলায় ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে ব্যবহৃত মাইকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে মোট ২ হাজার ৫০৯টি মাইক সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে মসজিদ থেকে ১ হাজার ৩২৩টি, মন্দির থেকে ১ হাজার ১১৬টি এবং গুরুদুয়ারা থেকে ৭০টি মাইক সরানো হয়।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্মীয় উপাসনালয়সহ বিভিন্ন স্থানে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রচলিত বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে ঘটনাটি ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের আহ্বানও জানানো হয়েছে।

