যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারের সময় কোনো ধরনের মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর তথ্য বা তথ্য গোপন না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। ভুল তথ্য দেওয়া বা জাল নথি ব্যবহার করলে ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রেও গুরুতর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় ঢাকার মার্কিন দূতাবাস ভিসাপ্রার্থীদের সাক্ষাৎকারে সম্পূর্ণ সত্য তথ্য দেওয়ার পরামর্শ দেয়। দূতাবাসের বক্তব্য অনুযায়ী, আবেদনকারীদের অতীতের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের তথ্য কনস্যুলার কর্মকর্তাদের কাছে থাকতে পারে। ফলে সাক্ষাৎকারে কোনো তথ্য আড়াল করা বা ভুল তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করলে তা গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
দূতাবাস জানিয়েছে, ভিসাপ্রার্থীদের সাক্ষাৎকারে করা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন করা, বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া কিংবা ভুয়া নথি উপস্থাপন থেকেও বিরত থাকতে হবে। এসব কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভিসা আবেদন বাতিল হতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞাও আরোপ হতে পারে।
ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রেও তথ্যের সত্যতা গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ভুলভাবে উপস্থাপন বা প্রতারণার আশ্রয় নিলে অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের আওতায় আবেদনকারী স্থায়ীভাবে ভিসার অযোগ্য হতে পারেন। ডিএস-১৬০ আবেদনপত্রের ক্ষেত্রেও মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার বিষয়ে একই ধরনের সতর্কতা রয়েছে।
তবে সব ধরনের ভিসা প্রত্যাখ্যান স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা তৈরি করে না। নির্দিষ্ট কিছু কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যান হলে পরিস্থিতির পরিবর্তন সাপেক্ষে পরবর্তী সময়ে নতুন করে আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। কিন্তু প্রতারণা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ভুলভাবে উপস্থাপনের মতো বিষয় স্থায়ী অযোগ্যতার কারণ হতে পারে।
এ কারণে ভিসাপ্রার্থীদের আবেদনপত্র পূরণ থেকে শুরু করে সাক্ষাৎকার পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সঠিক তথ্য দেওয়া এবং নথিপত্রের সত্যতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।

