হৃদ্রোগের উন্নত চিকিৎসার জন্য একসময় উত্তরাঞ্চলের রোগীদের বড় একটি অংশকে ঢাকায় ছুটতে হতো। তবে সেই পরিস্থিতি এখন অনেকটাই বদলে গেছে। বগুড়ায় হৃদ্রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা, পেসমেকার স্থাপন, ক্যাথল্যাবের মাধ্যমে চিকিৎসা এবং জটিল হৃদ্যন্ত্রের অস্ত্রোপচারের সুযোগ তৈরি হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের রোগীদের ঢাকামুখী হওয়ার প্রবণতা কমছে।
হৃদ্রোগের উন্নত চিকিৎসার জন্য একসময় উত্তরাঞ্চলের রোগীদের বড় একটি অংশকে ঢাকায় ছুটতে হতো। তবে সেই পরিস্থিতি এখন অনেকটাই বদলে গেছে। বগুড়ায় হৃদ্রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা, পেসমেকার স্থাপন, ক্যাথল্যাবের মাধ্যমে চিকিৎসা এবং জটিল হৃদ্যন্ত্রের অস্ত্রোপচারের সুযোগ তৈরি হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের রোগীদের ঢাকামুখী হওয়ার প্রবণতা কমছে। (Prothom Alo)
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে টিএমএসএস হার্ট সেন্টার। বগুড়া সদর উপজেলার ঠেঙ্গামারা এলাকায় টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রফাতুল্লাহ্ কমিউনিটি হাসপাতালের বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে গড়ে উঠেছে এই হার্ট সেন্টার। ২০০৫ সালে বহির্বিভাগের মাধ্যমে এখানে হৃদ্রোগের চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সেবার পরিধি বাড়িয়ে ক্যাথল্যাব, ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি ও কার্ডিয়াক সার্জারির মতো বিশেষায়িত চিকিৎসা চালু করা হয়েছে।
টিএমএসএস হার্ট সেন্টারের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. মজিবর রহমান সেলিম জানান, ২০০৫ সালে কার্ডিওলজি বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। ২০১২ সালে ১২ শয্যার সিসিইউ ও পোস্ট সিসিইউ চালুর মাধ্যমে ইনডোর সেবা শুরু হয়। এরপর ২০২১ সালে হার্ট সেন্টার প্রকল্পের যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। এখন পর্যন্ত সেখানে ১৭৮টি কার্ডিয়াক সার্জারি হয়েছে। এর মধ্যে বাইপাস ও হার্টের ভাল্ভের অস্ত্রোপচারও রয়েছে।
বর্তমানে টিএমএসএস হার্ট সেন্টারে ১৭৫টি শয্যা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহির্বিভাগে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৯৭৭ জন হৃদ্রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩৮ হাজার ৯৩৬ জন। বগুড়া ছাড়াও আশপাশের উপজেলা এবং উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসছেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ হৃদ্রোগ চিকিৎসাকেন্দ্র হয়ে উঠছে।
টিএমএসএস হেলথ সেক্টরের প্রধান ডা. মো. মতিউর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন রোগীর জন্য প্রাথমিক পরামর্শ ও পরীক্ষা থেকে শুরু করে নিবিড় পরিচর্যা, ক্যাথল্যাবের চিকিৎসা এবং প্রয়োজন হলে কার্ডিয়াক সার্জারির ব্যবস্থাও এখানে রয়েছে। ফলে চিকিৎসার জন্য রোগীদের অন্যত্র যাওয়ার প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কমছে।
অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলের দরিদ্র ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালটির কার্ডিওলজি বিভাগে ৯ হাজার ৯৯৪ জন হৃদ্রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।
তবে রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে হাসপাতালটিতে শয্যাসংকট রয়েছে। ১ হাজার ৬০০ শয্যার এই হাসপাতালে কার্ডিওলজি বিভাগের অনুমোদিত শয্যা মাত্র ৪৫টি। অথচ প্রতিদিন সেখানে দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝে ও বারান্দায় থেকেও চিকিৎসা নিতে হয়।
হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. অলক চন্দ্র সরকার জানান, হাসপাতালটি যখন ৫০০ শয্যার ছিল, তখন যে জনবল কাঠামো ছিল, সেটিই এখনো বহাল রয়েছে। বর্তমানে রোগীর তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। ৪৫ শয্যার কার্ডিওলজি বিভাগে দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে তিন পালায় সেবা দিতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপকের পদটিও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
সব মিলিয়ে বগুড়ায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে হৃদ্রোগ চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারিত হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য চিকিৎসা পাওয়া আগের তুলনায় সহজ হয়েছে। বিশেষায়িত সেবার বিস্তার ঢাকায় যাওয়ার প্রয়োজন কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে হৃদ্রোগ চিকিৎসার সক্ষমতাও বাড়াচ্ছে। তবে সরকারি হাসপাতালে রোগীর তুলনায় শয্যা ও জনবলের ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

