রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় করা মামলায় অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ১ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। বহুল আলোচিত এই মামলায় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
রোববার আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ (জিপি-পিপি শাখা) থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে জানানো হয়, মামলার আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে পরিচালনার জন্য ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মুসা কালিমূল্যাহকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী তিনি এ দায়িত্ব পালনের জন্য ভাতাদি পাবেন এবং আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে ঢাকা আইনজীবী সমিতি ঘোষণা দেয়, শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামিদের পক্ষে তারা আদালতে দাঁড়াবে না। পরে বিচার প্রক্রিয়া সচল রাখতে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান রোববার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেন। চার্জশিট দাখিলকে কেন্দ্র করে দুপুরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রিজন ভ্যানে করে তাদের আদালতে আনা হয়। পরে আদালতের গারদখানায় রাখা হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য। ফরেনসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হত্যার আগে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ধর্ষণের পর তাকে প্রথমে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে তার দেহ থেকে মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করা হয়।
শনিবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ডিএনএ রিপোর্ট হস্তান্তর করে। সিআইডির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনার জন্য সরকার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুকে নিয়োগ দিয়েছে।
গত বুধবার আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই দিন গ্রেপ্তার হওয়া সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে পাঠানো হয়।
শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন মহল সোচ্চার রয়েছে।

