বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, ‘শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস, এইটা বাউফলের মানুষকে দেখানোর দরকার নাই, শেখ হাসিনার কাছে জেনে নিয়েন। শেখ হাসিনার কাছে জিজ্ঞেস করে দেখে নিয়েন, শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস।’
রোববার (৩১ মে) বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামল, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়।
বক্তব্যে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার দেশের বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছিল। সড়ক, সেতু, ফ্লাইওভারসহ নানা প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে তার দাবি, শুধু দৃশ্যমান উন্নয়ন করলেই জনগণের সমর্থন ধরে রাখা যায় না। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “এত উন্নয়ন করার পরও যদি একটি সরকার শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় টিকে থাকতে না পারে, তাহলে তার কারণ খুঁজতে হবে। উন্নয়নই যদি সবকিছুর মাপকাঠি হতো, তাহলে শেখ হাসিনার সরকারেরই সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কথা ছিল।”
তিনি আরও বলেন, জনগণ শুধু রাস্তা-ঘাট বা অবকাঠামো চায় না। তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং নাগরিক অধিকারও প্রত্যাশা করে। মানুষের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত না হলে উন্নয়নের সুফল জনগণের মনে প্রত্যাশিত সন্তুষ্টি তৈরি করতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যের একপর্যায়ে নিজের রাজনৈতিক অতীত এবং ছাত্রজীবনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে দেখেন, আমার রাজনৈতিক ভূমিকা সম্পর্কে সেখানে অনেকেই জানে। যারা একসময় ক্যাম্পাসের প্রভাবশালী ও আলোচিত ব্যক্তি ছিল, তাদের কাছেও জানতে পারেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ কে।”
এ সময় তিনি সমালোচকদের উদ্দেশে সতর্কতামূলক ভঙ্গিতে বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া ব্যক্তিগত আক্রমণ বা উসকানিমূলক মন্তব্য করা উচিত নয়। তিনি মন্তব্য করেন, “উল্টাপাল্টা কথা বলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করবেন না। এমন কিছু করবেন না, যা পরে সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে যায়।”
ভিডিওটি প্রকাশের পর তার বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

