ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পঞ্চগড়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা বলেন, যেখানে তালা খোলা হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে, সেই জায়গাটি কোনো আওয়ামী লীগ কার্যালয় নয়, বরং একটি সাধারণ গুদামঘর ছিল। তিনি জানান, ঘটনাটি মূল উদ্দেশ্য ছিল সামাজিকভাবে তাকে হেয় করা।
সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার পুরাতন ক্যাম্প এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবু দাউদ প্রধান। তিনি বলেন, ভিডিওতে যে স্থানে তালা খোলা হয়েছে, তা চাকলাহাট ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ অফিস নয়। তিনি সেটিকে একটি গুদামঘর হিসেবে চিনতেন।
বিএনপি নেতার বর্ণনা অনুযায়ী, গতকাল সকালে তিনি গ্রামের বাড়ি থেকে শহরে ফেরার পথে চাকলাহাট বাজারে মানুষের জমায়েত দেখতে পান। সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি জানতে পারেন, একটি গুদামঘরের তালার চাবি জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীর কাছে ছিল, যিনি তা দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। পরে তিনি ওই ব্যক্তিকে বুঝিয়ে চাবি দিতে বলেন এবং তালা খুলে দেন। তারপর চাবিটি স্থানীয় বাজার বণিক সমিতির সভাপতির কাছে রেখে দেন।
আবু দাউদ প্রধান আরও বলেন, যেখানে তালা খোলা হয়েছে সেখানে কোনো চেয়ার, টেবিল বা কোন রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ড ছিল না। তাই তিনি মনে করেন, ভিডিওটি ও সামাজিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে তার রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেট বক্তব্য দিচ্ছেন। এছাড়া ছাত্রলীগ নেতা আনিসুজ্জামান স্বপনসহ আরও অনেককে ভিডিওতে দেখা যায়। সেখানে অফিস খুলে দেওয়ায় আবু দাউদ প্রধানকে ধন্যবাদ দিতে দেখা যায়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ঘটনাটি কোনো দলীয় সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রমের অংশ নয় এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ভুল ব্যাখ্যা করে পরিবেশন হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এই ঘটনায় পঞ্চগড়ে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে এবং বিভিন্ন মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।

