ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের দাবি উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী রাজনীতিক ও সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যাননের মন্তব্য এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে স্টিভ ব্যানন অভিযোগ করেন, যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, তখন ইয়াইর নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে অবস্থান করছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যুদ্ধ চলাকালে কেন একজন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে নিরাপদে বিদেশে থাকবেন, যেখানে অন্যরা যুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন।
ব্যানন আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের উচিত ইয়াইরকে দেশ থেকে বের করে দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো। তার ভাষায়, “তাকে ইউনিফর্ম পরিয়ে সরাসরি যুদ্ধের প্রথম সারিতে পাঠানো উচিত।” এই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
ইয়াইর নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, বিশেষ করে ফ্লোরিডার মিয়ামি শহরে। তার এই অবস্থান নিয়েও আগে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা উঠেছিল, কারণ অনেক ইসরায়েলি নাগরিক যেখানে সেনাবাহিনীতে যোগ দিচ্ছেন, সেখানে তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এখনো যুক্তরাষ্ট্র সরকার বা ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি মূলত একটি রাজনৈতিক বক্তব্য হলেও এর মাধ্যমে যুদ্ধকালীন দায়িত্ব, ক্ষমতাবান পরিবারের ভূমিকা এবং নৈতিক প্রশ্নগুলো সামনে চলে এসেছে।
সামগ্রিকভাবে, ঘটনাটি শুধু একটি ব্যক্তিকে ঘিরে বিতর্ক নয়; বরং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতি, যুদ্ধকালীন দায়িত্ববোধ এবং জনমতের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রতিক্রিয়া আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর সবার।

