কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ডাকাতি করে পালানোর সময় দেশীয় অস্ত্রসহ পাঁচজনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয় জনতা। তবে এ ঘটনার পর আটক ডাকাতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল এবং অপরাধে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
শনিবার (৬ জুন) সকালে উপজেলার মাধাইয়া ইউনিয়নের কুটুম্বপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তিরা কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তারা একটি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডাকাতি শেষে একটি পিকআপ ভ্যানে করে পালিয়ে যাওয়ার সময় গল্লাই ইউনিয়নের কালিয়ারচর এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয় ডাকাতদের বহনকারী গাড়িটি। এ সময় অটোরিকশার যাত্রীরা বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে কুটুম্বপুর এলাকায় আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয় এলাকাবাসী।
সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কুটুম্বপুর শীলবাড়ি এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে পিকআপটির গতিরোধ করা হয়। এ সময় পাঁচজনকে আটক করা সম্ভব হলেও তাদের আরও কয়েকজন সহযোগী পালিয়ে যায়। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের মারধর শুরু করলে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত অবস্থায় পাঁচজনকে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ডাকাতদের আটক করার পর ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়া কয়েকজন যুবক তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এমনকি ডাকাতদের ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটিও অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়।
চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও দস্যুতার একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নতুন মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে ডাকাতদের কাছ থেকে লুটে নেওয়া মালামাল ও পিকআপ ভ্যান উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

