সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশি ও অন্যান্য নাগরিকদের জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) ঘটনা প্রতিরোধে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় ৬০ হাজার বিজিবি সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পুশ ইন প্রচেষ্টার সংখ্যা বাড়তে থাকায় বাহিনীটি নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ ইন সফল না হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেও কাজ করছে বিজিবি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। যেসব ব্যক্তিকে বাংলাদেশি বলে দাবি করে সীমান্তে পাঠানো হচ্ছে, তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রকৃত নাগরিকত্ব নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে গ্রহণ না করার নীতিতে অটল রয়েছে বাংলাদেশ।
এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পুশ ইন ইস্যুতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান খোঁজার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার মেনে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে পুশ ইন শুধু নিরাপত্তা নয়, মানবিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে। তাই বিষয়টি মোকাবিলায় কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজিবির ব্যাপক মোতায়েন সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

