কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডি ‘ব্রাউনফিশ’-এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন মডেল ও রাজনীতিবিদ মেঘনা আলম। ঘটনাটির পেছনের কারণ নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে বিষয়টি আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখার কথাও বলেছেন।
সম্প্রতি রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার দক্ষিণ মানিকদীতে অবস্থিত নিউ গিনি প্রপার্টিজে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই প্রকল্পের একটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে ‘ব্রাউনফিশ’ নামে স্টুডিও পরিচালনা করছিলেন সালমান মুক্তাদির। হামলায় সময় স্টুডিওটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানে থাকা বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট ও লুট হওয়ার কথা জানিয়েছেন সালমান।
ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে একটি ভিডিও আপলোড করেন। হামলার কারণ হিসেবে শুরুতে চাঁদা না দেওয়ার কারণ উল্লেখ্য করেন সালমান মুক্তাদির। কিন্তু, পুলিশের ভাষ্যমতে, চাঁদাবাজির জন্য নয় বরং জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা হয়েছে।
পুলিশের দেওয়ার বিবৃতি অনুযায়ী, জমি ও চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধের জেরে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। আবাসন প্রকল্পের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী জশবরতিকের বিরোধ ছিল। পরে ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
এই পরিস্থিতিতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন মেঘনা আলম। সেখানে তিনি সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে তাঁর অতীত পরিচয় ও সম্পর্কের কিছু প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। মেঘনা জানান, একসময় সালমান তাঁর প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন এবং তাঁর কঠিন সময়ে পাশে থাকার কথাও বলেছিলেন। এমনকি একবার তাঁর বাসায় এসে বাসন ধুয়ে দেওয়ার কথাও বলেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে সময়ের সঙ্গে সালমানের কিছু কর্মকাণ্ডে মেঘনা আলম হতাশ হন।
নিজের স্ট্যাটাসে মেঘনা আরও একটি পুরোনো ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়ার পর তাঁর ফোন ও ম্যাকবুক খুঁজে। সে সময় সালমানের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের বিষয়টি দেখে এক তদন্ত কর্মকর্তা সালমানকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, ‘এই সালমান মুক্তাদির দুনিয়ার সব গণ্ডগোলে কীভাবে ঢুকে পড়ে?’ মেঘনা সেই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “সব গ্যাঞ্জামে কমন যখন একজন থাকে, তখন গ্যাঞ্জাম আসলে ওই ব্যক্তির ভেতরেই থাকে।”
সাম্প্রতিক স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনাতেও মেঘনার প্রশ্ন হামলার প্রকৃত কারণকে ঘিরে। তিনি জানতে চান, হামলাকারীদের পরিচয় ও হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে যখন বিভিন্ন বক্তব্য সামনে আসছে তখন ঘটনাটিকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত করার ভিত্তি কী।
মেঘনার মতে, পুরো বিষয়টি আরও পরিষ্কারভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। স্টুডিওতে হামলার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে, পুলিশ ব্যাখ্যা দিয়েছে তাতে সালমানের স্টুডিওকে কেন্দ্র করে হামলাটি সংঘটিত হয়নি। জমি ও চলাচলের বিরোধ থেকেই মূল সংঘাতের সূত্রপাত এবং সেই ঘটনার মধ্যেই স্টুডিওটি ভাঙচুরের শিকার হয়েছে বলে পুলিশের বক্তব্য।

