বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদান এবং কর্তব্যরত অবস্থায় আত্মোৎসর্গের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশের ছয়জন শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ প্রদান করেছে জাতিসংঘ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিহত শান্তিরক্ষীদের পরিবারের সদস্যদের হাতে পদক তুলে দেন।
মরণোত্তর এই সম্মাননায় ভূষিত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা হলেন, প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা এবং প্রাইভেট শান্ত মণ্ডল। তারা আফ্রিকার আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনী (ইউএনআইএসএফএ)-এর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, চলতি বছরে বিশ্বব্যাপী কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে গত বছর দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো ৫৯ জন শান্তিরক্ষীও রয়েছেন। এই পদক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সেনা ও পুলিশ সদস্য প্রেরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ। বিভিন্ন দেশে পরিচালিত জাতিসংঘ মিশনে চার হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি সদস্য কর্মরত রয়েছেন। শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে তাদের ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত। বাংলাদেশের এই ছয় বীর সন্তানের আত্মত্যাগ জাতির জন্য গৌরবের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

