যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় আইসক্রিম খেতে গিয়ে পেরেক গিলে গুরুতর অসুস্থ হওয়া এক নারীকে ১ কোটি ৪১ লাখ ৪৭ হাজার ৫২৫ ডলার ৩৯ সেন্ট ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ব্রেভার্ড কাউন্টির ছয় সদস্যের জুরি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ ১৭০ কোটি টাকারও বেশি।
ঘটনাটি ঘটে ২০১৮ সালে ফ্লোরিডার পাম বে শহরে। ব্র্যান্ডি বাকলি নামের ওই নারী একটি ব্রাস্টার্স আইসক্রিমের দোকানে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বাটার পেকান ফ্লেভারের আইসক্রিম কিনেছিলেন। আইসক্রিম খাওয়ার সময় হঠাৎ তার গলায় কিছু আটকে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়। প্রথমে তিনি বিষয়টিকে আইসক্রিমের মধ্যে থাকা পেকান বাদামের টুকরো বলে মনে করেছিলেন।
পরে আইসক্রিম থেকে একটি ধাতব পেরেক দেখতে পান বাকলি। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তিনি হাসপাতালে যান। সেখানে এক্স-রে পরীক্ষায় তার শরীরে ধাতব বস্তু থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার শরীর থেকে একটি পেরেক ও আরও কয়েকটি ধাতব টুকরো বের করেন।
তবে সেখানেই শেষ হয়নি শারীরিক জটিলতা। মামলার তথ্য অনুযায়ী, ধাতব বস্তু গিলে ফেলার পর চিকিৎসা চলাকালে বাকলির পোর্টাল শিরায় রক্ত জমাট বেঁধে যায়। এর ফলে তার শরীরে উল্লেখযোগ্য অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ঘটে। পরবর্তীতে তাকে আরও চিকিৎসা নিতে হয়।
বাকলির আইনজীবীদের দাবি, এসব চিকিৎসাগত জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি স্থায়ীভাবে সন্তান ধারণের সক্ষমতা হারান। ফলে আইসক্রিম খাওয়ার ওই ঘটনা তার জীবনে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও ব্যক্তিগত প্রভাব ফেলে।
ঘটনার পর ২০১৯ সালে বাকলি মালাবার ক্রিমারিজের বিরুদ্ধে মামলা করেন। প্রতিষ্ঠানটি ব্রাস্টার্স আইসক্রিম ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত। মামলায় আইসক্রিমে পেরেক ও অন্যান্য ধাতব টুকরো থাকার কারণে তিনি আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
মালাবার ক্রিমারিজ অবশ্য অভিযোগগুলো অস্বীকার করে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আইসক্রিমে কোনো ত্রুটি ছিল না। একই সঙ্গে বাকলির নিজের অবহেলা এই ঘটনার জন্য দায়ী বা আংশিকভাবে দায়ী হতে পারে বলে মনে করে তারা।
এরপর ২০২৬ সালের মার্চে ব্রেভার্ড কাউন্টির ছয় সদস্যের একটি জুরি স্থানীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ও জাতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজার—উভয় পক্ষকেই দায়ী করে। এরপর বাকলির জন্য মোট ১৪,১৪৭,৫২৫ দশমিক ৩৯ ডলার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়।
মামলার আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসার ব্যয়, শারীরিক ক্ষতি, ভোগান্তি এবং ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ক্ষতিপূরণের অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে জুরির এই রায়ের পরও আইনি প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হয়নি। বাকলির আইনজীবী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে। ফলে জুরি যে অর্থ নির্ধারণ করেছেন, তা বাকলি ঠিক কবে হাতে পাবেন, সেটি পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রায়ের পর অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
২০১৮ সালের একটি সাধারণ আইসক্রিম খাওয়ার ঘটনা এভাবেই কয়েক বছর ধরে চলা একটি আইনি লড়াইয়ে পরিণত হয়। শেষ পর্যন্ত জুরির রায়ে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ নির্ধারিত হলেও, রায়ের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আপিলের কারণে মামলাটির পরবর্তী ধাপ এখনো বাকি রয়েছে।

